BCS কি সত্য নাকি এইটা নিয়ে ব্যবসা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে
একটা বিষয় চিন্তা করি:
এ বছর ৩৮তম BCS প্রিলিতে আবেদন করে 3,89,468 জন।(টাকা জমা দেয় প্রায় 3,46,574 জন)একটুলক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই মানুষগুলোরে নিয়ে কি পরিমাণ ব্যবসা হচ্ছে:-
1) বই বাবদ:- ১ জন শিক্ষার্থী মিনিমাম গড়ে ৪০০০ টাকার BCS related বই পুস্তক ক্রয় করে। এ হিসাবে (3,89,468 গুণ 4000 = প্রায়ই ১৬০ কোটি টাকা)
তাহলে আপনিই বলুন, আমরা আগামু না তারা আগাবে?
2) 3,46,576 এর মধ্যে মিনিমাম কোচিং করেছে 1,00,000 জন। কোচিংগুলোতে গড়ে 6500 টাকা ফি দিতে হয়েছে।সেই হিসেবে (1.5Lakh গুণ 6500= প্রায় ১০০ কোটি টাকা।)
অর্থাৎ বই+কোচিং বাবদই প্রায়ই ৩০০ কোটি টাকার রমরমা ব্যবসা!!
মধ্যবিত্ত পরিবার+পরিক্ষার্থীর শ্রম,মেধা,প্রাইভেট টিচিং,বয়স এগুলোর কথা বাদই দিলাম)
ইস!
এই ৪ লাখ থেকে যদি ১.৫ লাখকে কারিগরী এবং উদ্যোক্তা বানানো যেত তবে... দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭.২৮% থেকে অনায়াসে জিডিপি ১২% উন্নীত হয়ে যেত!!
একটা দেশে তরুণ সমাজ কিভাবে হতাশগ্রস্থ হয়! তাঁর শ্রম,মেধাগুলো ক্ষয় করছে!
কি করে? - ব্যাংকের কলম গুতিয়ে,বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকুরী করে,এনজিও তে জব করে ইত্যাদি, উদ্যোক্তা তৈরির কোন বালাই নেয়!
এতে দেশে আদৌ কি উন্নয়ন হবে! কিন্তু আমরা এই উদ্যমী পথিকদের যদি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে জড়িয়ে দিতে পারি, তবে বাংলাদেশ মালয়েশিয়াকে টপকাতে বেশিদিন লাগতো না!
-গতকাল রাত ৩টার দিকে ইউটিউবে চীনা ডকুমেন্টারী দেখছিলাম একটি ইলেকট্রিক কোম্পানির। কোম্পানিটি আয়তনে বিশাল প্রায়ই ৫ কি:মি: জুড়ে বিস্তৃতি। যেখানে কারখানাটাই ১ কি:মি লম্বা।
বাকী ৩ কি:মি জুড়ে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যে রয়েছে আবাসন,স্কুল,কলেজ,হাসপাতাল সবকিছু। সবচেয়ে যে বিষয়টা আমার ভাল লেগেছে সেটা হলো যেখানে কোমলমতি শিক্ষীর্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা শেষে যখন মাধ্যমিক লেভেলে যায় তখন তাদের কারিগরী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়। তারা পড়াশুনার পাশাপাশি যে ইলেকট্রিক কাজটা ভাল পারে সেটা করছে, তাকে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে না আমাদের দেশের মতো! এবং সবাই খুব সৌখিনভাবে কাজগুলো শিখছে,নতুন নতুন idea দিচ্ছে।
এজন্যেই লক্ষ্য করবেন চীন বাংলাদেশ থেকে স্কলারশীপ দিয়ে মেডিকেলে শিক্ষার্থী ভর্তি করায় তাদের দেশে! কারণ তাদের দেশে কেউ সহজে ডাক্তারী পড়তে চায় না। তারা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে চাই।
ডাক্তারী সকল উপাদান কিন্তু তারাই তৈরি করছে।
আজ বাংলাদেশের এমন কোন জায়গা পাবেন না যেখানে চীনা পণ্য নেই!
আর হা এটাই হচ্ছে কারিগরী বিদ্যা!
(আর আমাদের ছোট বেলা থেকে মগজে ঢুকিয়ে দেয়া হয় বাবা বড় হয়ে কি হবা? ডাক্তার না ইঞ্জিনিয়ার? যেখানে পুথিঁগত বিদ্যার জয়জয়কার! প্যাকট্রিক্যাল জ্ঞানকে লাথি মেরে উড়িয়ে দেয়া হয়! হায়রে শিক্ষা
